মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
সাধারণ নাগরিকদের মতো তারকাদেরও আন্দোলিত, উদ্বেলিত করে অমর একুশে। ভাষাশহীদদের আত্মদান, বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলন কীভাবে আলোড়িত করে তা জানিয়েছেন তারকারা সন্তানদের মাঝে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিই
মৌসুমী, চিত্রনায়িকা
একুশ মানেই তো আমাদের ভাষার স্বাধীনতা। আজ যে ভাষায় কথা বলছি এটাই আমার কাছে একুশের চেতনা। নিজের ভাষায় সঠিকভাবে বলতে পারা, মাতৃভাষাকে সম্মান দেওয়াটাই তো একুশের চেতনা। এটি নিজের ভেতর সর্বদা লালন করি এবং আমার সন্তানদেরও এভাবেই একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে অনুভূতি দেওয়ার চেষ্টা করি। তারা যেন একুশের চেতনা ধারণ করতে পারে।
ভাষা আন্দোলন না হলে
মুক্তিযুদ্ধ হতো না
জয়া আহসান, অভিনেত্রী
বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, সালাহউদ্দীনসহ অগণিত ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। মহান ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে আমরা পৌঁছে যাই ৭১-এর রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। বাংলার দামাল মুক্তি সেনারা অকাতরে প্রাণ দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে প্রিয় স্বাধীনতা। আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত মানুষ। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন না হলে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হতো না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারাত। আজ একথা ভেবে গৌরববোধ করি। আমি এক নির্ভীক সৃষ্টিশীল জাতির শিল্পকর্মী। বাংলা চলচ্চিত্রের যে অভিনয় ভুবনে আমার নিদ্রাহীন পদচারণা তা তো সম্ভব হয়েছে ওই ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের কারণে।
একুশ একটা চেতনার নাম
হাবিব ওয়াহিদ, সংগীতশিল্পী ও কম্পোজার
একুশে ফেব্রুয়ারি আমার কাছে একটা চেতনার নাম। যে চেতনা ভাষাকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে। ভাষার সঠিক চর্চা করতে অনুপ্রেরণা জোগায়। ভাষার জন্য কোনো জাতি প্রাণ দিতে পারে- এটি আয়নার মতো নিজেকে নিজের সামনে দাঁড় করায়। সর্বোপরি একুশ আমাদের মনে সাহস জোগায় সংগ্রামের-অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের। কথাগুলো শুধু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমি যে পেশাতে আছি, সেখানে শুদ্ধভাবে ভাষা ব্যবহার করে বাংলা ভাষাকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা সবসময় থাকে। কখনো ভাষাকে বিকৃত করি না আমি।
আমরা গর্বিত এক ইতিহাসের মালিক
জাকিয়া বারি মম, অভিনেত্রী
চেতনায় একুশ সর্বদাই ধারণ করি। পৃথিবীর কোন দেশে এমনটি ঘটেছে যে ভাষার জন্য যুদ্ধ! অথচ আমরা এমন গর্বিত এক ইতিহাসের মালিক। ভাষাশহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, মাতৃভাষার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা। আর এ শ্রদ্ধা তাদের প্রতি যারা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং আন্তরিকতা নিয়ে সারা বছর আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষাকে লালন করছেন জীবনে ও যাপনে। একুশের চেতনা আসলে বলে বিশ্বাস করানোর কিছু নেই। এটি অন্তরে-মননে লালন করার বিষয়।
বাংলা ভাষা নিয়ে গর্বিত
বাপ্পী চৌধুরী, চিত্রনায়ক
আমার কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। একুশ এলেই মনের মধ্যে অন্য ধরনের অনুভূতি কাজ করে। একুশের কারণেই বাঙালি হিসেবে আজ আমরা গর্ববোধ করতে পারছি। বাঙালির ইতিহাসে বাহান্ন এসেছিল বলে একাত্তর এসেছে; পরে আমরা স্বাধীন জাতির স্বীকৃতি পেয়েছি। যে চারটি বড় স্তম্ভের ওপর বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভটি হলো জাতীয়তাবাদ। আবার এ জাতীয়তাবাদের চেতনাবাহী প্রধানতম স্তম্ভ হলো ‘ভাষা’। আমরা আমাদের বাংলা ভাষা নিয়ে গর্বিত।
সূর্যসন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
বিদ্যা সিনহা মিম, মডেল ও নায়িকা
যে ভাষার জন্য আমাদের দেশের সূর্যসন্তানরা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। একুশের চেতনা শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই নয়, সারা বছরই থাকে। আমাদের ভাষাটা অন্য আট-দশটি দেশের ভাষার মতো এত সহজে পাইনি। যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এ ভাষা অর্জিত হয়েছে। তাই একুশ মননে সর্বদাই থাকে। আমার কাছে একুশে ফেব্রুয়ারির অর্থ হচ্ছে বাংলা ভাষা, বাংলা গান, বাংলা ভাষায় গান গাইবার সর্বোচ্চ শক্তি। এই একুশ না এলে বাংলা ভাষা আসত না, বাংলা ভাষায় কথা বলাও হতো না, বাংলা ভাষায় গান গাওয়াও হতো না। তাই একুশ আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা, একুশ আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। একুশ আমার অহংকার। ভাষাশহীদদের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, আন্তরিক ভালোবাসা।